আমাদের গল্প ২০২০ সালে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে যাত্রা শুরু হয় তাজুল ইসলাম একাডেমির। স্থানীয় শিশুদের মানসম্পন্ন ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার স্বপ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। প্রি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ১৫ থেকে ২০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়ে আমরা প্রতিদিন এগিয়ে চলেছি। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই প্রকৃত শিক্ষা নয় — একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণ মানবিক বিকাশেই আসল শিক্ষার সার্থকতা।
জুনিয়র প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য — ছোট্ট শিশুদের জন্য এমন একটি আনন্দময় শেখার পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে তারা নিজেকে এবং তাদের নতুন পরিবেশকে স্বচ্ছন্দে আপন করে নিতে পারে। স্কুলকে শিশুরা যেন ভয়ের জায়গা নয়, বরং নিরাপদ ও ভালোবাসার একটি আশ্রয় হিসেবে অনুভব করে — এটিই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এই স্তরে শেখার মূল চালিকাশক্তি হলো অনুসন্ধান ও আবিষ্কার। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি শিশুর ভেতরে এক সহজাত কৌতূহল লুকিয়ে আছে; সেই কৌতূহলকে জাগিয়ে তোলাই আমাদের কাজ। বইয়ের পাতার পাশাপাশি হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশুরা শেখে — যেখানে প্রতিটি পাঠ গল্প, থিম কিংবা ছোট ছোট অভিযানের রূপ নেয়। গণিত শেখানো হয় ধাপে ধাপে, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে অনুসরণ করে। প্রথমে বাস্তব বস্তু ছুঁয়ে, নেড়েচেড়ে অভিজ্ঞতা; এরপর ছবি ও চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন; এবং সবশেষে বিমূর্ত চিন্তা ও সংখ্যার জগতে প্রবেশ। ফলে গণিত শিশুর কাছে মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং বোঝার ও উপভোগ করার বিষয় হয়ে ওঠে। শিল্প ও সংগীত শিশুর কাছে আত্মপ্রকাশের আরেকটি ভাষা। ছবি আঁকা, সুর শোনা, গান গাওয়া আর ছন্দে শরীর মেলানো — এমন নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশু তার কল্পনা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখে। এই সৃজনশীল অভিজ্ঞতাগুলোই তার আত্মবিশ্বাস ও মানসিক বিকাশের ভিত গড়ে দেয়। জুনিয়র প্রোগ্রামের প্রতিটি কার্যক্রম আমাদের চার মূলনীতি — নৈতিকতা, সুস্থতা, দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা — কে কেন্দ্র করে সাজানো। এই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েই শিশুরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দিকে।